বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনই জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের উপায়: জোনায়েদ সাকি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদদের ওপর আনা শোকপ্রস্তাব’র আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে জোনায়েদ সাকি দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। বরং গত ১৭ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রকে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বিএনপির নেতৃত্বে ৩৯টি রাজনৈতিক দল রাজপথে লড়াই করেছে। গণসংহতি আন্দোলন ও গণতন্ত্র মঞ্চসহ এই দলগুলো ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা নিয়ে জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে। বিগত বছরগুলোতে বহু নেতাকর্মীকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের এক অভূতপূর্ব সংগ্রাম। এই আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, ছাত্রনেতা জুলফিকার স্বাধীনসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন।

এসময় নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)-এর শহীদদের স্মরণ করে সাকি বলেন, বাঞ্ছারামপুরের সন্তান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা নয়ন মিয়া, আশিক, তুহিন, ইসমাইল ও ইমরান পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের এই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

জোনায়েদ সাকি জোর দিয়ে বলেন, এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য শুধু ফ্যাসিবাদের পতন নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করা। জুলাই হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে বিগত সময়ের সব গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা ছাড়া সত্যিকার অর্থে জনগণের ঐক্য তৈরি হয় না। আর জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য ছাড়া দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐক্যের আহ্বানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। এটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি রাজনৈতিক দিশা।

সবশেষে পুরো সংসদকে জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণে আবদ্ধ উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার, বিরোধী দল ও সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহত যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিমানবন্দরে ৩০০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ

» ড. ইউনূস ‘ডাস্টবিন’ সংস্কৃতি চালু করেছিলেন: আনিস আলমগীর

» হাদির খুনিদের ফেরাতে ১৫ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

» ‘আমি কিন্তু আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম’ আমিনুলকে জাইমা

» অস্ত্র-গুলিসহ ডাকাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র এক সদস্য আটক

» সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের ঢল

» মঙ্গলবার খুলছে অফিস-আদালত-ব্যাংক

» মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৫ ফ্লাইট বাতিল

» ছুটিতে একঘেয়েমি দূর করার কিছু কার্যকর কৌশল

» ঈদের ছুটির আনন্দে শিশুর সুরক্ষা, যা জানা জরুরি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনই জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের উপায়: জোনায়েদ সাকি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদদের ওপর আনা শোকপ্রস্তাব’র আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে জোনায়েদ সাকি দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। বরং গত ১৭ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রকে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বিএনপির নেতৃত্বে ৩৯টি রাজনৈতিক দল রাজপথে লড়াই করেছে। গণসংহতি আন্দোলন ও গণতন্ত্র মঞ্চসহ এই দলগুলো ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা নিয়ে জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে। বিগত বছরগুলোতে বহু নেতাকর্মীকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের এক অভূতপূর্ব সংগ্রাম। এই আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, ছাত্রনেতা জুলফিকার স্বাধীনসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন।

এসময় নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)-এর শহীদদের স্মরণ করে সাকি বলেন, বাঞ্ছারামপুরের সন্তান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা নয়ন মিয়া, আশিক, তুহিন, ইসমাইল ও ইমরান পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের এই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

জোনায়েদ সাকি জোর দিয়ে বলেন, এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য শুধু ফ্যাসিবাদের পতন নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করা। জুলাই হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে বিগত সময়ের সব গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা ছাড়া সত্যিকার অর্থে জনগণের ঐক্য তৈরি হয় না। আর জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য ছাড়া দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐক্যের আহ্বানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। এটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি রাজনৈতিক দিশা।

সবশেষে পুরো সংসদকে জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণে আবদ্ধ উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার, বিরোধী দল ও সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহত যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com